superadmin
প্রকাশ : Apr 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে ২৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়কে অবর্ণনীয় ভোগান্তি

রফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর মন্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের আহমেদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার কাঁচা ও কাদাময় সড়কে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের বৃহৎ এনায়েতপুর, শাহজাদপুর ও সোহাগপুরের কাপড়ের হাটে যাতায়াত, পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে রোগী পরিবহন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় সড়কটি কাদায় পরিণত হওয়ায় হাঁটাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রায় ছয় বছর আগে ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা ও হুরাসাগর নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুরের পাঁচিল থেকে আহমেদপুর পর্যন্ত ৪০ ফুট প্রস্থের ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রাস্তা নির্মাণ করা হয়। তবে পাকা না হওয়ায় দুই বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। অন্যদিকে, মোনাকষা থেকে এনায়েতপুর মন্ডলপাড়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও উঁচু করার অংশ হিসেবে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়, যার কাজ প্রায় ছয় মাস আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে সৈয়দপুর, পাঁচিল, রূপসী, খোকশাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় পুরো ২৯ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে এই সড়কটি ‘কান্নার সড়ক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ভাড়া বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আগে যেখানে ভ্যান বা রিকশায় ১৫ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৬০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
রূপসী গ্রামের বাবুল হোসেন, সোনাতলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম এবং গোপীনাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী হাজী আবুল হোসেন বলেন, “দেড় বছর ধরে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। জরুরি রোগী নিয়েও হাসপাতালে যেতে পারছি না। এভাবে আর কতদিন চলবে?”
এদিকে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে হিমশিম খাচ্ছে এবং তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে পাকাকরণ করা হোক এবং প্রস্তাবিত মহাসড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।
তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সয়দাবাদ-এনায়েতপুর ও কৈজুরী-বেড়া সড়ককে সংযুক্ত করে পাবনা পর্যন্ত প্রায় ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার এ প্রকল্পের পাশাপাশি বড়াল নদীর ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির সংশোধিত নকশা ইতোমধ্যে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: আটক অ

1

সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন ॥ সভাপতি কিবরি

2

কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত

3

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ২

4

মহেশপুরে পথ বন্ধ করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্

5

রাজশাহীর বাঘায় শিক্ষক সংকটে ৭৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কা

6

চট্টগ্রামের সিআরবিতে ফের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ, জনমনে ক্

7

সোনার দামে সুখবর

8

চোর-ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে চায় ফরিদপুরের চর হাটঘাটাবাসী

9

মাদারীপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে রণক্ষেত্র: অর্ধশত

10

মুকসুদপুর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক আরি

11

শীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে কেন?

12

২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

13

চৌহালীর রেহাই পুকুরিয়া আর্দশ কলেজ রাস্তার বেহাল দশা, ভোগান্ত

14

আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হবে নতুন দুই মেট্রো রেলে

15

জায়নামাজ, পালকি-হারিকেনসহ প্ল্যাকার্ড নিয়ে বাংলা নবযাত্রা র‌

16

২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করবে ইসি

17

আমার স্মৃতিতে অধ্যাপক আনিসুর রহমান: এক বাতিঘরের গল্প

18

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

19

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা সং জে-রিমের প্রয়াণ: প্রেসিডেন

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন