superadmin
প্রকাশ : Sep 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুর্নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ রেলওয়ে

রূপম ভট্টাচার্য্য, চট্টগ্রাম ব্যুরো : ইঞ্জিন-কোচ কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সরঞ্জাম ক্রয় এবং অবকাঠামো সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বেপরোয়া দুর্নীতির বেড়াজালে চরমভাবে বন্দি দেশের বৃহৎ গণপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা অনিয়মে খাতটি এখন জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য মিলেছে।
কারিগরি বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রেলওয়ের যন্ত্রাংশ তৈরির দুটি কারখানা রয়েছে দেশে। এগুলোর একটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে, অপরটি সৈয়দপুরে। কিন্তু এ দুটি কারখানায় রেলের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি হয় না। এরপরও এই দুটি কারখানা সংশ্লিষ্ট শতাধিক কর্মকর্তা এবং হাজারো কর্মচারী কর্মরত। যাদের পেছনে সরকারের বড় অংকের বেতন ব্যয় হচ্ছে প্রতি বছর। এখানে থেমে নেই বিষয়টি, দুটি কারখানায় যন্ত্রাংশ তৈরির নামে শতকোটি টাকার বরাদ্দও নিচ্ছে। আবার বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানিও করা হচ্ছে। যার পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। আর এই টাকা কমিশনসহ নানা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। এক্ষেত্রে কারখানা দুটোতে নিম্নমানের কিছু যন্ত্রাংশ যেমন তৈরি করা হয়, তেমনি বিদেশ থেকেও উঁচুমানের অর্থ দিয়ে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ কিনে আনা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব যন্ত্রাংশ কাগজে-কলমে স্টোরে সংরক্ষিত রাখা হলেও বাস্তবে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই দুস্কর। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাঝে মধ্যে প্রকাশ পায়। তদন্তে প্রমাণ পেলেও তদন্ত কর্মকর্তা, এমনকি অডিট কর্মকর্তারা পর্যন্ত মিলে কলাকৌশলে তা গোপন রেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখেন না। আর এসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয় বদলি। তাও যেন পুরস্কারস্বরূপ।
রেলওয়েতে প্রবাদ আছে, যে যত বেশি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তার পদোন্নতিও মিলে আগে, বদলিও হয় দুর্নীতির উর্বর স্থানে। যার উদাহরণ বর্তমান ডিজি থেকে শুরু করে বিগত ১৮ বছরে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ডিজি (মহাপরিচালক), এডিজি (অতিরিক্ত মহাপরিচালক) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল জিএম (মহাব্যবস্থাপক), সরঞ্জাম ক্রয়, প্রকৌশল দফতরগুলোর প্রধান প্রকৌশলীরা। তারা পদোন্নতির সঙ্গে যেখানে বদলি হন সেখানে বেপরোয়া দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। সরঞ্জাম কেনাকাটা ও অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকারের ভর্তুকির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেন বলে অভিযোগ আছে। তাদের লুটপাটের প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করেন ঠিকাদাররা। যার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে ট্রেন পরিচালনায়। আর খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে।
সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে রেলওয়েতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের বড় একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিন সচল রাখার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও রোগ সারছে না। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্পেও লোপাট হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। ট্রেন পরিচালনার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত লোকোমোটিভ/ইঞ্জিন সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি অঞ্চলে (পূর্ব ও পশ্চিম) মোট ইঞ্জিন আছে ২৭১টি। মিটারগেজ ১৫০টি ও ব্রডগেজ ১২১টি। এর মধ্যে ৮৭টি অকেজো, বাকিগুলো চলে জোড়াতালি দিয়ে। এসব ইঞ্জিন দিয়েই বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ও ৪০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করে রেলওয়ে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, রেলওয়ে পাহাড়তলী ডিজেল শপের অধীনে থাকা ৯০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ৪০টি অকেজো আর ৫০টি মেরামত করে চালানো হচ্ছে। খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে এসব ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ইঞ্জিনের বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ কিনতে হয় বিদেশ থেকে। লুটপাটে অচল ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ইঞ্জিনও রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের মতে, রেলওয়ে ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় সাধারণত ২৫ বছর। কিন্তু আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের ১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালে আমদানি করা ২০০০ সিরিজের ইঞ্জিনের বয়স ৭২ বছর পার হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালনো হচ্ছে। বিপরীতে ২০২০ সালে হুন্দাই রোটেমের সরবরাহ করা ৩০০০ সিরিজের আধুনিক ৩০টি লোকোমোটিভ/ইঞ্জিন এখন অচল রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নিয়ে করোনা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্ট্রো মোটিভ ডিজেল (ইএমডি)-এর লাইসেন্সের আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০টি লোকোমোটিভ আমদানি করা হলেও তা অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পাহাড়তলীর অধীন ২২টি ইঞ্জিনের মধ্যে সচল আছে মাত্র ৯টি আর মেরামতাধীন আছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৩০০০ সিরিজের ২০ ইঞ্জিন অনেকটাই অচল। এই ইঞ্জিন কেনায় সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০০০ সিরিজের (১৯৫৩, ১৯৫৪ ও ১৯৫৬ সালের) ৩টি ইঞ্জিনের ২টি, ২২০০ সিরিজের (১৯৬১ থেকে ১৯৬৩ সালের) ৭টির মধ্যে ১টি, ২৬০০ সিরিজের (১৯৮৮ সালের) ১৬টির মধ্যে ৮টি, ২৭০০ সিরিজের (১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালের) ১৮টির মধ্যে ৭টি ইঞ্জিন লাইফটাইম (আয়ুষ্কাল) শেষ হলেও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। বাকিগুলো অচল। আবার ১৯৯৯, ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৩ সালে আমদানি করা ২৯০০ সিরিজের ৩৯টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২০টি সচল থাকলেও ১৯টির আয়ুষ্কাল শেষ। এগুলো মেরামত করে চালানোর উপযোগী করা বেশ কষ্টকর। এক কোটির পার্টস ৮ কোটিতে কেনার পাঁয়তারা রেলওয়ের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিনের এক কোটি টাকার স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় কেনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তাধীন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারটি টেন্ডারের সব নথি ও রেকর্ডপত্র চেয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দফতরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
দুদকের প্রধান কার্যালয়, ১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা থেকে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক নং-০০.০১.১৫২০.৬০৪.০৩.২৬৪.২৬/চট্টগ্রাম ৫৪১২-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম বিভাগ থেকে ই-জিপি টেন্ডার আইডি নং ১০৯৩৭৪৪, ১০৯৩৮৮৫ ও ১০৯৩৮২৬-এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিভাগে ব্যবহারের জন্য ১৪টি আইটেমের ডায়েচ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার পার্টস কেনা হয়। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের স্পেয়ার পার্টস ৮ কোটি টাকায় ক্রয় করে সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকা ক্ষতি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রভাবশালী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক সংশ্লিষ্ট ৪টি টেন্ডারের ক্রয় নথি, দরপত্র অনুমোদন, বাজারদর, দাফতরিক প্রাক্কলন, এপিপি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কৃতকার্য দরদাতার ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর, ই-টিআইএন, ভ্যাট (বিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিজ্ঞতার সনদ, নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (NOA), চুক্তিপত্র, মালামাল সরবরাহ সংক্রান্ত তথ্যসহ যাবতীয় সত্যায়িত কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। চিঠিতে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম-কে গত ২২ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে চাহিদাকৃত তথ্য ও রেকর্ডপত্র দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো
হয়েছে।
আরও অর্থ ঢালার ফাঁদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রেল সচলের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী ডিজেল শপের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এহতেশাম মো. শফিক বলেন, ইঞ্জিন সংকটে বিভিন্ন রুটে অনেক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। যথাসময়ে ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অনেক বাড়বে। এতে করে রেলের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি লোকসান কমানোও সম্ভব হবে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে যেখানে হাজার কোটি টাকা দরকার সেখানে বরাদ্দ আছে ১২০ কোটি টাকা। তাও আবার টাকা ছাড় করতেই অর্থবছর শেষ হয়ে যায়। ফলে কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি টাকা ছাড়ের পদ্ধতি সহজ করা দরকার। জনবল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে ৬০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এগুলো আসতে কমপক্ষে তিন বছর
সময় লাগবে। তাছাড়া চীন ২০টি ইঞ্জিন উপহার দেবে অল্প সময়ের মধ্যে। তার ভাষ্য, অর্থবছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া গেলে সময় নিয়ে দরকারি যন্ত্রাংশ কেনাকাটা করা যায়। এ খাতের বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই আমদানি করতে হয়, সুতরাং বরাদ্দের টাকা ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট সময়ও বরাদ্দ রাখা জরুরি। এই তিন বছর রেলসেবা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দরকার। প্রায় একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন।
তিনি বলেন, জনবল ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে ৬০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন আমদানির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এগুলো আসতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। তাছাড়া চীন ২০টি ইঞ্জিন উপহার দেবে অল্প সময়ের মধ্যে।
আর সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতি অর্থবছরে সরকার ভর্তুকি থেকে যে বরাদ্দ দেয় তাও কমিশনসহ বিভিন্ন কৌশলে লুট করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকার যে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়, তার ২০ কোটি টাকাও রেলওয়ের উন্নয়নে ব্যয় হলে রেলের এ দশা হতো না। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেট ভরছে না। সরকার থেকে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেলে সুইজারল্যান্ডে তাদের আমানত আরও ভারী হতো। তাদের মন ভরতো। আয় নেই কানাকড়িও, ভর্তুকিতে উন্নয়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, রেলওয়েতে আয় নেই কানাকড়িও। যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে যা আয় হয় তা বছর শেষে ব্যয় সমন্বয়ের পর দেখা যায় লাভের খাতা শূন্য। যা মেটানো হয় ভর্তুকি দিয়ে। আর কানাকড়ি আয় না থাকার অন্যতম কারণ হলো দুর্নীতি ও অপারেশনাল দক্ষতার ঘাটতি।
তাদের মতে, একটি ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় অচল থাকলে শুধু পরিবহন সক্ষমতাই কমে না, রাজস্ব আয়ও হ্রাস পায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি ভর্তুকি নির্ভর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে একই ইঞ্জিন থেকে দীর্ঘ সময় সেবা পাওয়া সম্ভব এবং নতুন ইঞ্জিন কেনার চাপও কমে আসে। রেলওয়ের কমার্শিয়াল বিভাগ সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে রেল পরিচালিত হচ্ছে তার একটি বড় অংশ অপারেশনাল অদক্ষতা ও যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইঞ্জিন ও কোচের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে, যাত্রী সংখ্যা বাড়বে, পণ্য পরিবহন সম্প্রসারিত হবে এবং রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (যান্ত্রিক) মুহাম্মদ খুদরত ই খুদার ভাষ্য, ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা ধরে রাখতে প্রয়োজন সময়মতো ওভারহলিং, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রক্ষণাবেক্ষণ। এসব কাজ নিয়মিতভাবে না হলে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে রেলওয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও লোকোমোটিভ শেডে এমন অনেক ইঞ্জিন রয়েছে, যেগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যন্ত্রাংশ সংকটে এসব ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আর্থিক সংকট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে কাজে লাগতো তাহলে এ সমস্যা প্রকট হতো না।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিনামূল্যেই দেখা যাচ্ছে প্রীতম-জেফারের ‘তুমি আমি শুধু’

1

সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি : প্রধানমন্ত্রী

2

ঢাবির অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের জামিন নামঞ্জুর

3

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়লো ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা, ৪০ হাজারে বিক্র

4

নবীগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

5

শত্রুকে ঘাঁটি বা আকাশপথ দিলে কারো রক্ষা নেই: ইরান সশস্ত্র বা

6

জাবিতে ২১ বোতল বিদেশি মদসহ শিক্ষার্থী আটক, এক বছরের জন্য বহি

7

ইরান ইস্যুতে একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: ঘনিয়ে আসছে কি ব

8

২০২৫ সালে দুর্নীতিতে ১৩তম, স্কোর বাড়লেও অবনমন এক ধাপ

9

ফরিদপুরে মাদ্রাসার জমি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ

10

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প

11

বিএনপির পরবর্তী চেয়ারম্যান কি তারেক রহমান? আলোচনায় গঠনতন্ত্র

12

লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা

13

কুড়িগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী প

14

৩ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্র

15

ঝিনাইদহে ভাড়া বাসা থেকে নারী হোটেল শ্রমিকের বস্তাবন্দি মরদেহ

16

মুন্সীগঞ্জে প্রাচীন ও দুর্লভ কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তিসহ আট

17

শিল্প ভালো না হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না: অর্থমন্ত্রী

18

চৌহালীতে ব্র্যাকের উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ ও

19

আগৈলঝাড়ায় নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন