superadmin
প্রকাশ : Aug 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তফসিলের আগেই রাসিকে ভোটের হাওয়া ॥ জামায়াতের একক, বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন কবে হবে, এখনো তার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনও ঘোষণা করেনি তফসিল। কিন্তু এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় নগরজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলোচনা। রাজনৈতিক দলের নেতারা ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারও। ফলে তফসিল ঘোষণার আগেই রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে সিটি নির্বাচনের হাওয়া।
ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে বলে জানা গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও মেয়র পদে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে এনসিপির প্রার্থীর বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে বিএনপিতে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অর্ধডজনের বেশি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় সবাই বলছেন, শেষ পর্যন্ত দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।
তবে এবার সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামতে চায় জামায়াত। দলটির প্রার্থী জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমঝোতার বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় তাদের কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও সংগঠিতভাবে ভোটের মাঠে কাজ করতে চান তারা।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে ঘিরে প্রচার শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দলীয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
রাসিক মেয়র পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও দলের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বর্তমান রাসিক প্রশাসক ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীন শওকত, নগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত এবং নগর যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবি।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা। ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হলেও ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আবারও লিটনের কাছে পরাজিত হন তিনি। এ কারণে বিএনপির একটি অংশ তাকে এবারও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছে। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর তাকে রাসিক প্রশাসকের দায়িত্ব না দিয়ে বাংলাদেশ বন ও শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কথা বলছেন না।
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপিতে পাঁচ থেকে সাতজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই তার সিদ্ধান্ত। দলের প্রয়োজনে তিনি সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, রাজশাহী সদর আসন সবসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে তার প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহীন শওকত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজপথে সক্রিয়। অনেকেই তাকে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই সবাই একসঙ্গে কাজ করবেন।
তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দলটির প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা এবং এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার খবরে নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন দল কাকে প্রার্থী করে, কোন দলের সঙ্গে কার রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় এবং ভোটের মাঠে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন-এসবের ওপরই নির্ভর করবে রাজশাহী সিটি নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র।
তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের বর্তমান তৎপরতা মূলত রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও জনসংযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার হবে রাজশাহী সিটির মেয়র পদে কারা লড়ছেন এবং নগরবাসীর ভোটের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাত বছর পর শীর্ষে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর, পিই রেশিও ৫–এর নিচে

1

কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী: হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

2

তথ্যমন্ত্রীর সাথে মিশরের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতে যৌথ মিডিয়া ফো

3

কুড়িগ্রামে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমা

4

লৌহজংয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

5

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বগুড়া মহানগর বিএনপির আনন্দ মিছিল

6

সাবেক আইজিপি বেনজিরকে ফেরাতে নথিপত্র পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট

7

লৌহজংয়ে সোহেল মুন্সী নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা

8

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে

9

খুলশীতে ৪ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দম্পতি ॥ পুলিশের নজরে মাদক

10

মুকসুদপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বি

11

কোস্ট গার্ডে ১০ হাজার নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের

12

কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষিশ্রমিক নিহত

13

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে একের পর এক ‘ভাঙন’ এনসিপিতে

14

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চি

15

কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে যাতায়াত ভাতা ও সনদপত

16

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

17

ফরিদপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের একই পরিবারের ৪ জনসহ

18

মুন্সীগঞ্জে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর চামড়া সং

19

সিরাজগঞ্জে আট বছরেও আলোর মুখ দেখেনি উল্লাপাড়া বিমানবন্দর

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন