superadmin
প্রকাশ : Jan 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভবঘুরের ছদ্মবেশে ছয় খুন: সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল 'সাইকো সম্রাট'

ভবঘুরের ছদ্মবেশে ছয় খুন: সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল 'সাইকো সম্রাট'


​নিজস্ব প্রতিবেদক:
​সাভারের পরিত্যক্ত একটি পৌর কমিউনিটি সেন্টারকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল এক সিরিয়াল কিলার। ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা এই ব্যক্তি গত কয়েক মাসে একের পর এক ছয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও নিবিড় তদন্তের ভিত্তিতে অবশেষে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এই ঘাতককে, যার নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে 'সাইকো সম্রাট'।

​তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের পার্বতীনগরে অবস্থিত পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটি ছিল সম্রাটের মূল অপরাধস্থল। 

পর্যায়ক্রমে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের বিবরণে জানা যায়, ​২৯ আগস্ট ২০২৫: পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত যুবকের হাত বাঁধা ও গলায় ওড়না প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ​১১ অক্টোবর ২০২৫: একই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের পাশ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। ​১৯ ডিসেম্বর ২০২৫: আবারও সেই পরিত্যক্ত ভবনেই পাওয়া যায় ৩৫ বছর বয়সী এক পুরুষের আগুনে পোড়া ও গলিত কঙ্কালসার দেহ। ​৪ জুলাই ২০২৫: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হলে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলা রুজু করা হয়। ​১৮ জানুয়ারি ২০২৬: সর্বশেষ ঘটনার দিন একই কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে এক যুবক (২৫) এবং এক কিশোরীর (১৩) আগুনে পোড়া ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​১৮ জানুয়ারি জোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সাভার থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা নড়েচড়ে বসে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ভবঘুরে বেশে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছেন। তার চলাফেরা এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের যোগসূত্র মেলাতেই বেরিয়ে আসে 'সাইকো সম্রাট'-এর পরিচয়।

​সাভার মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। সে সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার মৃত সালামের ছেলে।
​
​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেছে যে, সে একাই এই ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটিকে সে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করত এবং সেখানে মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে বা সুযোগ বুঝে নিয়ে গিয়ে হত্যা করত। প্রমাণ লোপাটের জন্য সে অধিকাংশ লাশ পুড়িয়ে বা বিকৃত করে দিত।

​সাভার মডেল থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একাধিক মামলা (মামলা নং ৪১ ও ৪৩ সহ পূর্ববর্তী মামলাসমূহ) রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে এবং কেন সে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চারঘাটে যুবলীগ নেতার হাত-পায়ের নখ উপড়ে পৈশাচিক নির্যাতন

1

কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত

2

কালীগঞ্জে তিনদিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলার পুরস্কার বিতরণী ও সম

3

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে জরু

4

খুলনায় টিএমএসএস’র উদ্যোগে সদস্যদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ

5

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর মাছের চাহিদা দেশব্যাপী

6

পোষাইদ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনের শীত নিবারণের জন্য মানবিক

7

ভারত নয়, শুটিংয়ের নতুন গন্তব্য হচ্ছে শ্রীলঙ্কা

8

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা-সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকা

9

একটি নতুন অর্থনীতির বীজ: মাটি থেকে শহরের টেবিল পর্যন্ত ফলজের

10

বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার

11

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ম

12

ফুলবাড়ীতে ঝড়ে পড়া গাছ নিয়ে সংঘর্ষে দুই পক্ষের নারীসহ ৪ জন আহ

13

জ্বালানি, তেল ও খনিজ সম্পদ নিয়ে পড়তে চান? কাজের সুযোগ কেমন?

14

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদরাসার পাঁচ শিক

15

১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন

16

অর্পিত সম্পত্তি নিজের নামে নামজারির অভিযোগ, জালিয়াতির প্রমাণ

17

৩৩৬ কোটি টাকার রূপপুর রেলপথে নেই ট্রেন ॥ ৩০ ইঞ্জিনের হিসাবও

18

মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন দোকানি, ট্রাক্টরের চাপায় প্

19

বিচ্ছিন্ন অঙ্গ সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি: জীবন বাঁচাতে জরুরি ৫টি

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন