superadmin
প্রকাশ : Aug 16, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ ফেরত দিল উপজেলা প্রশাসন

আবুল কালাম আজাদ : রাজশাহীর পবা উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে খাল খনন কাজ শেষ করতে না পেরে অব্যয়িত ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকিং চালানের মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত জমাদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘বৈরাগীর খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালটি খননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মে মাসে প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও হঠাৎ বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টির কারণে খালে বিপুল পরিমাণ পানি জমা হতে শুরু করে। ফলে খনন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। সার্বিক নিরাপত্তা ও কাজের বাস্তব মান বিবেচনায় প্রায় ১ কিলোমিটার (প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ) খনন শেষ করার পর অবশিষ্ট কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকাই জনগণের সম্পদ। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, সেটির বিপরীতে অহেতুক ব্যয় দেখানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেবল সম্পাদিত ৩৫ শতাংশ কাজের খরচ পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হলো, অন্যদিকে প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলো।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম জানান, কারিগরি দলের সহায়তায় খালের কতটুকু অংশ বাস্তবে পুনঃখনন করা সম্ভব হয়েছে তা নিখুঁতভাবে মেপে ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্পাদিত কাজের জন্য খরচ রেখে বাকি ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি টাকা সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ টাকা কোষাগারে ফেরত পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সুশাসন পর্যবেক্ষকরা।
তাদের মতে, প্রায়শই প্রকল্প অসম্পূর্ণ রেখে ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের খবর পাওয়া যায়। সেখানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক বার্তা তৈরি করে।
তবে পারিলা ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালের আংশিক খননের ফলে কিছু সুফল মিললেও পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে অবশিষ্ট অংশের কাজ পুনরায় চালু করা জরুরি। পরবর্তীতে নতুন বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে এবং প্রায় ২০ হাজার পরিবার কৃষিকাজে সরাসরি সুফল পাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাথাব্যাথা উপশমে আদা

1

বিবাহবার্ষিকীতে গ্ল্যামারাস লুকে ভক্তদের মুগ্ধ করলেন তাহসানে

2

সিরাজগঞ্জে বাজারে উঠেছে নতুন ধান ॥ দাম নিয়ে হতাশ কৃষক

3

অনলাইনে মিলবে বিনিয়োগের সব সেবা: বাণিজ্যমন্ত্রী

4

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদরাসার পাঁচ শিক

5

ভিন্ন লুকে ধরা দিলেন সাদিয়া আয়মান

6

লৌহজংয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

7

ই-বর্জ্যের রাসায়নিকে তীব্র হচ্ছে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁক

8

তারেক রহমান শহিদ হাদির কবর জিয়ারত করলেন

9

ইরানের পাল্টা হামলা: ২০০ মার্কিন সেনা হতাহত

10

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান,জনাব কলিমুদ্দিন চ

11

মুন্সীগঞ্জে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

12

রেলের ভুল সিদ্ধান্তে শত শত কোটি টাকার ক্ষতি; নেই জবাবদিহিতা

13

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৮ লাখ টাকার চোরাই মোবাইলসহ আটক ৩

14

ভোটের লড়াইয়ে নেই দুই সাবেক উপদেষ্টা; কেন প্রার্থী হলেন না তা

15

ঘরে বসেই মিলবে ঋণ: জামানত ছাড়াই মুহূর্তের ক্লিকে মিলছে টাকা

16

ফুলবাড়ীতে ভিডব্লিউবি এর চাল বিতরণ

17

বগুড়ায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল পরিদর্শন

18

যাচ্ছে আরও এক রণতরি, শিগগিরই কি ইরানে বড় হামলা?

19

সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের নীতি : প্রধানমন্ত্রী

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন