superadmin
প্রকাশ : Jun 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের মন্তব্যে খেপেছেন মেলোনি, বাতিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে মেলোনি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই আগ্রহী ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দেন। এই মন্তব্য প্রকাশের পর ইতালিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ বানোয়াট।
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়।
মেলোনি আরও বলেন, ট্রাম্প অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের চেয়ে নিজের মিত্রদের প্রতিই বেশি কঠোর ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ইতালি এবং আমি কারও কাছে মিনতি করি না।’ মেলোনির এই প্রতিক্রিয়ার পরপরই ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। সফরকালে তার একটি ব্যবসায়িক ফোরামে অংশ নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল।
তাজানি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘গুরুতর এবং আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি নিয়ে ইতালির সরকারের অন্য সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দেশটির বিচারমন্ত্রী কার্লো নর্দিও বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালিকে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করতে প্রাণ দেওয়া মার্কিন সেনাদের স্মৃতির প্রতিও অসম্মানজনক।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তোও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, মেলোনি কোনো পরিস্থিতিতেই ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কারও কাছে অনুরোধ করার মানুষ নন। তার মতে, এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ক ও জোটের জন্য ইতিবাচক নয়।
উল্লেখ্য, জর্জিয়া মেলোনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁদের অবস্থানের মিল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং পোপকে ঘিরে মন্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সূত্র:বিবিসি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে সার্ভিসিং সেন্টারে প্রাইভেটকারে বিস্ফোরণ: শিশুসহ দ

1

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: প্রাণহানি বেড়ে ২৩, ২১ জনের মরদেহ

2

কালীগঞ্জে তিনদিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলার পুরস্কার বিতরণী ও সম

3

মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটের ফ্লাইট ৮ মার্চ পর্যন্ত বাতিল করলো বিমা

4

অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল চলবে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত

5

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ম

6

রাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভ

7

ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনে ভ্রমণ: সময়সূচি ও ভাড়ার বিস্তারিত তথ

8

সিরাজগঞ্জে যমুনার তীর রক্ষা বাঁধে ধস

9

কক্সবাজারে পাহাড় কাটা বন্ধে ১২ কর্মকর্তাকে বেলার চিঠি

10

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ঘিরে এনসিপিতে বড় বিদ্রোহ: পদত্যাগ করল

11

বাঁশঝাড়ের নিচে তেলের খনি! পানির ট্যাংকে মিলল ১০ হাজার লিটার

12

লন্ডনে তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি আ

13

বাজারে স্বস্তি সরবরাহ বাড়ায় ঢাকায় কমছে নতুন পেঁয়াজের দাম

14

সৌদিতে পৌঁছেছেন ৪১ হাজার ৬২৯ বাংলাদেশি হজযাত্রী

15

মানিকগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃ

16

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন

17

ট্রাম্প রাজি হলেও,রাজি নয় ইরান

18

বিরামপুরে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি

19

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫৫,৬৯৩ বাংলাদেশি হজযাত্রী

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন