প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 19, 2026 ইং
শার্শায় আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে দুই সন্তানের জননী, দায়ি শিক্ষক

ইয়ানূর রহমান : যশোরের শার্শায় চম্পা খাতুন (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী পরকিয়ার জেরে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার ঘটনায় কবির হোসেন নামে এক স্থানীয় শিক্ষককে দায়ি করেছেন ঐ নারী। নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুকে দিয়ে চম্পা তার মৃত্যুর জন্য ওই শিক্ষককে দায়ী করেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে প্রবাসি স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চম্পা উক্ত গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী। তিনি উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৬ বছর আগে ধান্যতাড়া গ্রামের মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে প্রবাসে যায় মিন্টু।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে থাকার সময় ভবানীপুর গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিন ওরফে সোলেমানের ছেলে স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা প্রায় চার বছর ধরে চলছিল বলে পরিবারের দাবি।
অভিযোগে আরো জানা যায়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কবির বিভিন্ন সময়ে চম্পার কাছ থেকে নগদ টাকাসহ অনেক সুবিধা নিয়েছেন। তবে সম্প্রতি চম্পাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন শিক্ষক কবির। এতে চম্পা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে দাবি স্বজনদের। ঘটনার দিন সকালে চম্পা বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে তিনি ফোনে তাঁর ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই আমিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তাঁরা মামলা করতে থানায় গেলে চম্পার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও অভিযুক্ত কবিরের স্বজনেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেও সেদিন মামলা করা সম্ভব হয়নি। পরে আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরদিন পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেন।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে চম্পা নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে দেন। সেখানে তিনি শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং নিজের পরিণতির জন্য তাঁকে দায়ী করেন।
ভিডিওতে চম্পাকে বলতে শোনা যায়, “আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে কবির। আমার এই মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবিরই দায়ী, আর কেউ নয়।”
শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কবির হোসেনসহ দুজন নামীয় এবং তিন-চারজন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা