
ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বাদুরতলা গ্রামের বাদুরতলা বাজারের দক্ষিণ মাথা এলাকায় বিষখালি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জনগুরুত্বপূর্ণ চলাচলের সড়ক ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ৬টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওই সড়কটি বন্যার বাঁধ হিসেবে দেয়া হয়েছিল। এখন স্থানীয় কৃষকেরাও বিপাকে পড়েছেন তাদের ফসল নিয়ে।
গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ৪০ থেকে ৫০ শতক জমি ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল, আবু হানিফ, শহিদুল, নাসির মল্লিক, সেন্টুসহ অনেকে বলেন, বিষখালি নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চোখের সামনে রাস্তা ও জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙন বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষখালি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় ভাঙন অব্যাহত থাকায় সড়কের অবশিষ্ট অংশও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে দক্ষিণ বাদুরতলা, বাদুরতলা, পশ্চিম বাদুরতলা, গুরাভাঙ্গা, চল্লিশকাহনিয়া, পূর্ব উত্তমপুর ও চুনপুরিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে এসব এলাকার অন্তত পাঁচটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বাদুরতলা বাজারের দক্ষিণ মাথার এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। নদীভাঙনে সড়কের একটি বড় অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষা ও নদীর পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু সড়ক নয়, আশপাশের বসতভিটা ও ফসলি জমিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
তারা বলেন, সড়কটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের বিকল্প পথও তেমন নেই। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যাতায়াত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে জিওব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোরক সিকদার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নদীভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙনের কারণে স্থানীয় মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনের ভয়াবহতা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তাদের মতে, এখনই ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের বাকি অংশও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিষখালি নদীর তীর সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত পুনঃনির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি জানান, বিষখালি নদীর ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।