প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 14, 2026 ইং
তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়াতে রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু

মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে ‘কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে রাঙামাটি সদর জোনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. জুলফিকার রহমান, পিএসসি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে পরিচালিত সেনাবাহিনীর সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের একই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, শুধু কম্পিউটার শেখানো নয়, তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তাদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইনভিত্তিক কাজ, চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রশিক্ষণে কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, তথ্য অনুসন্ধান এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেজর মো. জুলফিকার রহমান বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ফলে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশও আরও সুদৃঢ় হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে এমন উদ্যোগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারলে পরিবার ও সমাজের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে পার্বত্য এলাকার তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও সম্প্রীতি জোরদারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা