প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 23, 2026 ইং
কালীগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলা, মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিক্ষকের উপর হামলা, হয়রানিমূলক মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে সহকর্মী শিক্ষকরা।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তারা দায়িত্বরত একজন শিক্ষকের উপর হামলা করে প্রাণনাশের চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসময় বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিহার সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক আলী মুর্তজা রেজা ফিটু, সহকারী শিক্ষক মোরশেদ হোসেন, আবু তাহের, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম, জিল্লুর রহমান প্রমুখ।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বায়শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে স্কুলের অফিস কক্ষে ঢুকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয় ১০ থেকে ১২ জন। স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ওই শিক্ষকের ওপর হামলা করা হয়। মারধরের পরে তাকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করেন। সন্ধ্যার দিকে ওই শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে স্কুল শিক্ষকের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
হামলার শিকার শিক্ষকের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের পুকুর লিজের টাকা স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্যকে না দেওয়ার কারণে ওই শিক্ষকের উপর হামলা ও মারধর করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ছাত্রীর হাতে লেখা দাবিকৃত ‘স্বাক্ষরবিহীন’ চিঠি ও অভিযোগপত্র প্রসঙ্গে বাদীপক্ষ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এই লেখাটি ছাত্রীর নয় বলেও জানায় তার চাচা সৌরভ সরকার।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে সমালোচনা।
এদিকে শিক্ষক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ প্রহরায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
হামলার শিকার শিক্ষকের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন, স্কুলের পুকুরের লিজের টাকা চেয়েছিল রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার ইলিয়াস। আমার স্বামী স্কুলের টাকা অন্য কাউকে না দেয়ায় তার সঙ্গে দুই সপ্তাহ ধরে ঝামেলা চলছিল। স্থানীয় সৌরভ সরকার ও সাবেক মেম্বার ইলিয়াস স্কুলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে আমার স্বামীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘটনাটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে শিক্ষকের ওপর হামলা ও শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা