প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 26, 2026 ইং
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে টাকার বিনিময়ে ডিএনসির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে ডিএনসি করার অভিযোগ উঠেছে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে। এদিকে ডিএনসি করার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানীয় বেসরকারী ক্লিনিকে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়ে দুই দফায় টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তার পরিবার। ওই রোগী গুরুত্বর অবস্থায় বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জেলার নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল গ্রামের রফিকুল ইসলামের দুই মাসের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী হীরা মনি শারীরিক জটিলতার কারণে গত ১৮ জুলাই ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পরিদর্শিকা জাহানারা বেগমের কাছে যান। এসময় জাহানারা বেগম আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে নিজেই হাসপাতালটির একটি কক্ষেই ডিএনসি করায় হীরা মনির। কিন্ত হীরা মনির অবস্থা খারাপ হলে তার কাছ থেকে উন্নত চিকিৎসার নামে আরো এক হাজার টাকা নেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন জাহানারা। হীরা মনির অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী হীরা মনি বলেন, অসুস্থাবস্থায় জাহানারা ম্যাডামের স্মরণাপন্ন হলে আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের কক্ষেই ডিএনসি সম্পন্ন করেন তিনি নিজেই। পরে আবার অসুস্থ হয়ে গেলে তিনি বলেন, আবার ডিএনসি করতে হবে মর্মে আরো এক হাজার টাকা নেন এবং একটি বেসরকারী ক্লিনিকে ভর্তি হতে বলেন।
যদিও জাহানারা বেগম বলেন, হীরা মনির কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। সে নিজের ইচ্ছাতেই অন্যত্র চলে গেছে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহাগ মিয়া বলেন, ডিএনসির পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী হীরা মনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহীম খলিল বলেন, সরকারী হাসপাতালে কোন রোগীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার এমনকি ডিএনসি করার অনুমতি বা সক্ষমতা পরিদর্শিকাদের নেই।
এদিকে স্থানীয়রা বিষয়টির তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক সময়বাংলা